আধুনিক মার্কেটিং যতটা না মার্কেটিং তার চেয়ে বেশি যুদ্ধ। কে কার মার্কেট শেয়ার দখল করবে, কে কত আকর্ষনীয় অফার মাথা নষ্ট করা এড দিয়ে কিভাবে অন্যের ক্লায়েন্ট বেজ ধরে টান দিতে পারে, মার্কেটিং এর এই দিকগুলোই আধুনিক মার্কেটিং এর সবচেয়ে বেশি প্রাকটিস করা হয়।
এই যুদ্ধের সবচেয়ে কমন প্রাকটিস দাম কমিয়ে ফেলা বা ফ্রি অফার দেয়া। অন্য সেক্টর বাদই দিলাম, ইকমার্স সেক্টরের কথাই বলি।
ইকমার্সে ২০/৩০ কিংবা ৫০% ডিসকাউন্ট তো ডালভাত, অনেকে তো মাঝে মাঝে ১৪০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দেয়। তাই বলে কিন্তু দারাজ, পিকাবু, বাগডুম এর মতো মার্কেট লিডাররা হারিয়েও যাননি কিংবা গোস্বা করে বিজনেসও ছেড়ে দেন নি।
মডার্ন মার্কেটিং এর অন্যতম একটা স্ট্রাটেজি হল প্রচুর পরিমানে টাকা খরচ কর, মার্কেট শেয়ার দখল কর, ইনভেস্টমেন্ট রেইজ করে পজিশন পোক্ত কর। যদিও এই বিজনেস মডেলটা অনেক বেশি রিস্কি, পাকা খেলোয়ার না হলে পদে পদে পিছলে যাওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু যারা ঠিকমত খেলতে পেরেছে তাদের অনেকেই গেইন করেছে।
চলুন গোটা কতক উদাহরন দেখে আসি, উবার যখন বাংলাদেশে ঢুকল মিলিয়ন ডলারের ফ্রি রাইড দিল, অথচ রাইডারদের কিন্তু তারা পকেট থেকে পে করেছে। অর্থাৎ নিজের পকেটের টাকা খরচ করে ক্লায়েন্ট রিক্রুট করেছে, ক্লায়েন্ট একুইজিশন রেট বাড়িয়েছে, মানুষকে অভ্যস্ত করেছে রাইড শেয়ারিং এ। এখন কিন্তু তারা সেই টাকা বহুগুনে তুলে নিচ্ছে।
আমাজন প্রতি মাসে বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই খাতে, এবং মজার বিষয় কি জানেন? টাকলা ব্যাটা জেফ বাসোস কিন্তু এখন দুনিয়ার সেরা ধনীদের একজন। এই মডেল ব্যাবহার করেই।
মডার্ন মার্কেটিং এর আরেকটা উল্লেখ যোগ্য দিক হল ব্রান্ড ওয়ার, এখানে নিতী নৈতিকতার কোন বালাই নেই। শুধুমাত্র মুখ রক্ষার খাতিরে যতটুকু রাখডাক। শত শত আন্তর্জাতিক ব্রান্ড এজেন্সি, সার্ভে কোম্পানি আর লাখো প্রফেশনাল দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে কিভাবে কম্পিটিটরকে টপকে, তাকে বাশ দিয়ে নিজের জায়গাটা তৈরী করা যায় …
তাই যারা উদ্যোক্তা আছেন, তাদের উদ্যেশ্যে একটা কথাই বলতে চাই, বিজনেস এর সারমর্ম একটাইঃ
বিজনেস হল নিজের পশ্চাদ্দেশ বাচিয়ে (কারন কম্পিটিটর রা কেউই আপনার পশ্চাদ্দেশে বাশ দিতে দ্বিধা করবে না) অন্যের মুখ থেকে খাবার (পড়ুন সুযোগ / ব্যাবসা / ক্লায়েন্ট) কেড়ে নিয়ে মার্কেটে নিজস্ব পজিশন ধরে রাখার লড়াই।
Leave a Reply